হিজড়াদের নিয়ে ছোট্ট একটি গবেষণাধর্মী লেখার প্রচেষ্টায় আছি ।লেখাও প্রায় শেষ। সম্পাদকিয় অংশটুকু নিচে তুলে ধরলাম
সম্পাদকীয়
সমাজকে অবলোকন করতে আসলেই কি লিঙ্গের প্রয়োজন ?আমরা
কি আমাদের সমাজকে আমাদের হাত, পা, চোখ, নাক, মুখ,কান দিয়ে সমাজকে অবলোকন করি নাকি
লিঙ্গ দিয়ে করি? যদি লিঙ্গ দিয়ে না করি তবে লিঙ্গের ভিত্তিতে সমাজে এত বৈষম্য কেন?
আর যদি করি তবে তা কতটুকু যৌক্তিক আর মানবিক ?লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের মাঝে বৈষম্য
সৃষ্টি করে মানুষ হিসাবে তাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একধরণের শোষণ ।বাস্তবে
সামাজিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে লিঙ্গের কোন ভুমিকা নেই আর যার পুনঃউৎপাদনে আক্ষম মানুষ
হিসাবে তাদেরকেও অধিকার বঞ্চিত করার কোন অধিকার নেই আমাদের। কিন্তু লিঙ্গের ভিত্তিতে
আমাদের সমাজে নারী, সমকামী ও হিজড়ারা অমানবিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।“হিজড়া”
নামক এই লেখাটিতে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী হওয়ায় হিজড়ারা এ সমাজ থেকে বঞ্চিত হয়ে কতটা
অমানবিক বৈষম্যের শিকার এবং হিজড়া সম্পর্কিত অনেকের অজানা তথ্য ও ভুল ধারনার উপর
আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি। লিঙ্গ মানুষকে সামাজিক প্রানি হিসাবে গড়ে তোলে না
কিন্তু সমাজ হিজড়া নামক এই মানুষগুলোকে লিঙ্গের ভিত্তিতে সমাজ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যা
খুবই অমানবিক আর তাই মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে হিজড়াদের সম্পর্কে মানুষকে কিছু
তথ্য দেয়ার প্রয়াসে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা । অনলাইনে হিজড়া সম্পর্কিত বিভিন্ন
লেখা, ভিডিও এবং বাক্তিগত চিন্তার জায়গা থেকে লেখাটি সাজানোর চেষ্টা করেছি।লিঙ্গ কখনোই মানুষের মূল পরিচয় না।আর্থিক-সামাজিকভাবে
বঞ্চিত-নিগৃহীত এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা সুযোগ পেলে সমাজের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। এখনই সময় তৃতীয় লিঙ্গের
মানুষদের অধিকার ফিরিযে দেবার, সামাজিক
মর্যাদা দেয়ার। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের সকলেরই জানা ও
বোঝা উচিৎ যে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা অন্য শারীরিক
প্রতিবন্ধীর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা সমাজে সুস্থ সুন্দরভাবে
জীবন যাপন করবে, রাষ্ট্র-সমাজ সবাই তাদের সরল দৃষ্টিতে দেখবে
এই প্রত্যাশাই ব্যাক্ত করি । সবার জন্যে
অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

