সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫

হিজড়া

হিজড়াদের নিয়ে ছোট্ট একটি গবেষণাধর্মী লেখার প্রচেষ্টায় আছি ।লেখাও প্রায় শেষ। সম্পাদকিয় অংশটুকু নিচে তুলে ধরলাম

সম্পাদকীয়

সমাজকে অবলোকন করতে আসলেই কি লিঙ্গের প্রয়োজন ?আমরা কি আমাদের সমাজকে আমাদের হাত, পা, চোখ, নাক, মুখ,কান দিয়ে সমাজকে অবলোকন করি নাকি লিঙ্গ দিয়ে করি? যদি লিঙ্গ দিয়ে না করি তবে লিঙ্গের ভিত্তিতে সমাজে এত বৈষম্য কেন? আর যদি করি তবে তা কতটুকু যৌক্তিক আর মানবিক ?লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করে মানুষ হিসাবে তাকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একধরণের শোষণ ।বাস্তবে সামাজিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে লিঙ্গের কোন ভুমিকা নেই আর যার পুনঃউৎপাদনে আক্ষম মানুষ হিসাবে তাদেরকেও অধিকার বঞ্চিত করার কোন অধিকার নেই আমাদের। কিন্তু লিঙ্গের ভিত্তিতে আমাদের সমাজে নারী, সমকামী ও হিজড়ারা অমানবিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।“হিজড়া” নামক এই লেখাটিতে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী হওয়ায় হিজড়ারা এ সমাজ থেকে বঞ্চিত হয়ে কতটা অমানবিক বৈষম্যের শিকার এবং হিজড়া সম্পর্কিত অনেকের অজানা তথ্য ও ভুল ধারনার উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি। লিঙ্গ মানুষকে সামাজিক প্রানি হিসাবে গড়ে তোলে না কিন্তু সমাজ হিজড়া নামক এই মানুষগুলোকে লিঙ্গের ভিত্তিতে সমাজ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যা খুবই অমানবিক আর তাই মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে হিজড়াদের সম্পর্কে মানুষকে কিছু তথ্য দেয়ার প্রয়াসে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা । অনলাইনে হিজড়া সম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা, ভিডিও এবং বাক্তিগত চিন্তার জায়গা থেকে লেখাটি সাজানোর চেষ্টা করেছিলিঙ্গ কখনোই মানুষের মূল পরিচয় না।আর্থিক-সামাজিকভাবে বঞ্চিত-নিগৃহীত এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা সুযোগ পেলে সমাজের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। এখনই সময় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকার ফিরিযে দেবার, সামাজিক মর্যাদা দেয়ার। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের সকলেরই জানা ও বোঝা উচিৎ যে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা অন্য শারীরিক প্রতিবন্ধীর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়।তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা সমাজে সুস্থ সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে, রাষ্ট্র-সমাজ সবাই তাদের সরল দৃষ্টিতে দেখবে এই প্রত্যাশাই ব্যাক্ত করি । সবার জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫

নারী একটি মাংস পিণ্ড মাত্র

নারী একটি মাংস পিণ্ড মাত্র, যেই মাংস পিণ্ড নিয়ে পুরুষ খেলা করে এবং তার খেলার আনন্দের জন্য মাংসপিণ্ড টিকে নানা রকম আকার ধারন করতে হয়। নারী কতটা নিরেট মাংসপিণ্ড হলে হযরত আলী বলতে পারেন, “যদি কোন স্ত্রীলোক নিজের একটি স্তন দ্বারা কাবাব ও অপর স্তন দ্বারা কালিয়া প্রস্তুত করিয়া স্বামীর সম্মুখে উপস্থিত করে, স্বামী যদি তাহাতেও তাহার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়, তবে সেই স্ত্রীলোক যতই পুণ্যবতী হোক না কেন, সে দোজখে নিক্ষিপ্ত হইবে। বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে রূপ কানোয়ারকে চিতার আগুনে নিক্ষিপ্ত করে আমাদের সমাজ সতীদাহের মজা লুটছে।
- - - (তসলিমা নাসরিনের  নারী সম্পর্কে অনেক আলচিত লেখা) 

ধর্মানুভূতি কোনো নিরীহ ব্যাপার নয়

ধর্মানুভূতি কোনো নিরীহ ব্যাপার নয়, তা বেশ উগ্র; এবং এর শিকার অসৎ কপট দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নয়, এর শিকার সৎ ও জ্ঞানীরা; এর শিকার হচ্ছে জ্ঞান।ধর্মানুভূতির আধিপত্যের জন্যে কোনো গুণ বা যুক্তির দরকার পড়ে না, প্রথা ও পুরোনো বই যোগায় তার শক্তি, আর ওই শক্তিকে সে প্রয়োগ করতে পারে নিরঙ্কুশভাবে। উগ্র অন্ধ ধর্মানুভূতি বিস্তারের পেছনে কাজ করে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতি ও রাজনীতি। দরিদ্রের শিক্ষালাভের সুযোগ নেই, তাই জ্ঞানের সব এলাকাই তার অজানা; তার জ্ঞানহীন মনের ভেতর প্রতিবেশ সহজেই সংক্রামিত করে অযুক্তি ও অপবিশ্বাস; আর তাতে সে খুঁজে পায় শান্তি ও শক্তি। তার কিছু নেই ব’লে তার সাথে থাকে এক অলৌকিক মহাশক্তি, যা তাকে বাস্তবে কিছু দেয় না, কিন্তু মানসিকভাবে সবল ক’রে রাখে।
দুর্নীতি ধর্মের পক্ষে কাজ করে; দুর্নীতিপরায়ণ মানুষেরা নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখার জন্যে জাগিয়ে তোলে ধর্মীয় উগ্রতা। তাই সমাজে যতো দুর্নীতি বাড়ে ততো বাড়ে ধর্ম। রাজনীতিবিদেরাও ব্যবহার করে ধর্মকে; তারা দেখতে পায় ক্ষমতায় যাওয়ার সহজ উপায় ধর্মের উদ্দীপনা সৃষ্টি; তাদের কল্যাণ করতে হয় না মানুষের, বিকাশ ঘটাতে হয় না সমাজের- এগুলো কঠিন কাজ; সবচেয়ে সহজ হচ্ছে ধর্মকে ব্যবহার ক’রে ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকা। কিন্তু এতে সমাজ নষ্ট থেকে নষ্টতর হ’তে থাকে, যা এখন ঘটছে বাঙলাদেশে। রাষ্ট্রকে মুক্ত হওয়া দরকার পৌরাণিক আবেগ থেকে, কেননা পৌরাণিক আবেগ গত কয়েক সহস্রকে মানুষের কল্যাণ বিশেষ করে নি, ক্ষতিই করেছে বেশি; এবং আজো ক্ষতি ক’রে চলছে।


- হুমায়ুন আজাদ

লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। - হুমায়ুন আজাদ।

বাঙালি মুসলমানেরা কিন্তু প্রকৃতই বাঙালি। একালে বাঙালিদের মধ্যে কেউ কেউ নিরর্থক গর্ব করতো যে তারা এদেশের নয়, তারা অমলিন মরুভূ আরবের। আমাদের মাঝে আরব রক্ত কিছুটা থাকতে পারে, কিন্তু আমরা এ-দেশেরই। আমরা আবহমানকাল ধ'রে বাঙালি। এদেশে মুসলমানদের আগমনের পরে, অনেকেটা ত্রয়োদশ শতাব্দীর পরে, এদেশের দরিদ্ররা, নিম্নবর্ণের লোকেরা, উৎপীড়িত বৌদ্ধরা মুসলমান হ'তে থাকে। কেননা মুসলমানরা সে-সময়ে এসেছে বিজয়ীর বেশে। অনেকে বিজয়ী শক্তির মোহে, অনেকে ধর্মের মোহে এবং অধিকাংশ দারিদ্র্য ও অত্যাচার থেকে মুক্তির জন্যে মুসলমান হয়েছে। এরা জাতিতে বাঙালি আর ধর্মে মুসলমান, যেমন আমরা। আমাদের প্রধান পরিচয় আমরা বাঙালি।
লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী।
- হুমায়ুন আজাদ।

রাজাকারদের পুনরুত্থান

বাঙলাদেশের ইতিহাসের একটি কালো ঘটনা রাজাকারদের পুনরুত্থান, যার জন্যে দেশ ও জাতিকে দিতে হবে মারাত্মক মূল্য। বাহাত্তরে কে ভাবতে পরেছিলো দিকে দিকে আবার দেখা দেবে রাজাকাররা, আর মুক্তিযোদ্ধারা দীক্ষা নেবে তাদেরই কাছে? জিয়াউর রহমান যে-রাজাকাররাজনীতি শুরু করেছিলেন, তার কুশস্য তোলা এর মাঝেই শুরু হয়ে গেছে। একটি বেতার ঘোষণার জন্য বাঙালি তাকে ধ'রে নিয়েছিল একনম্বর মুক্তিযোদ্ধা ব'লে, কিন্তু ঐ একনায়ক যেভাবে নিজে
র স্বার্থে রাজাকারদের চাপিয়ে দিয়ে গেলেন বাঙলাদেশের বুকের উপর তাতে বোঝা যায় একবার মুক্তিযোদ্ধা মানেই চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা নয়; এবং একনম্বর মুক্তিযোদ্ধাও একদিন শত্রু হয়ে উঠতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া কঠিন: যে কোন সময় পদস্থলিত হয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উঠতে পারে রাজাকার।
মাতাল তরণী- হুমায়ুন আজাদ।